দেবদাস বই রিভিউ pdf

দেবদাস বই রিভিউ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আমরা বেশিরভাগই লোকই, কেন জানি না দেবদাসের ব্যর্থ-প্রেমিক-রূপটাই গ্রহণ করি উপন্যাসটা না পড়েই। কে প্রথম এমন সর্বনাশা ধারণাটার বীজ এদেশের মাটিতে বুনল, সে বীরজাদাকে দেখতে আমার ভীষণ করে ইচ্ছে হয়।

অমিত-লাবণ্যের কাহিনি ‘শেষের কবিতা’ আসলে নিতান্তই ছোটো পাঠক হিসেবে পড়েছিলাম, এখন বুঝি ধীরে ধীরে। তারপরও অমিত মাফ পায়নি আমার কাছে। দেবদাস পেয়েছে। বেচারা মরে গিয়ে বেঁচেছে বোধহয়।

কিন্তু ‘দেবদাস’ উপন্যাসের বিচারে ‘শেষের কবিতা’ কতটা প্রাসঙ্গিক? কেবল অমিত আর দেবদাসের তুলনামূলক আলোচনা ছাড়া আমার কাছে সে অর্থে অপ্রাসঙ্গিকই লেগেছে। তাই ‘শেষের কবিতা’ প্রসঙ্গ শুরুতেই শেষ হোক বরং।

শিরোনামঃ দেবদাস বই রিভিউ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বই দেবদাস
লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ধরন উপন্যাস
প্রকাশকাল ১৯১৭
রিভিউ লেখক রেজওয়ান আহমেদ

 

📙📙 দেবদাস কাহিনী বিশ্লেষণ

‘দেবদাস’ উপন্যাস বিশ্লেষণে তিনটি চরিত্র প্রকট হয়ে উঠেছে। দেবদাসকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকারে পরিভ্রমণ করেছে যথাক্রমে পার্বতী এবং চন্দ্রমুখী। শুরুটা দুই গ্রামীণ পরিবারের কাহিনি হলেও তাই শেষমেশ মোটাদাগে ‘দেবদাস’ বিয়োগান্তক ত্রিভুজপ্রেমের আখ্যান।

সূক্ষ্মভাবে দেখতে গেলে অবশ্যই আলাদাভাবে নারীচরিত্রের বৈচিত্র্যের দিকটি আলোচনা করতে হবে। আমরা সে পথেই এগোবার চেষ্টায় আছি। পাণ্ডুয়ায় গাড়ি থামলে অসুস্থ দেবদাস নেমে হাতীপোতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমাদের গাড়িও হাতীপোতার উদ্দেশ্যেই যাবে – দেখি কোন্ পথে যেতে যেতে কাকে কাকে সঙ্গী করা যায়।

প্রাথমিকভাবে দেবদাস-পার্বতীকে দিয়ে শুরু করলে উভয়ের বেড়ে ওঠার সময়টা আমরা পাব। আমরা দেখি, দেবা আর পারুর দস্যিপনার নমুনা। এ অংশ পড়তে পড়তে আক্ষেপে ঘনীভূত হচ্ছিলাম – আমি এখনো ‘পথের পাঁচালী’ পড়লাম না! অবশ্য এর বাইরে এ ধরণের শৈশব-কৈশোরের বিবরণ নেই, এমনটা বলার সুযোগ নেই। জসীম উদ্দীনের ‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাসের বছির-ফুলী, হুমায়ুন কবিরের ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের মালেক-নুরু এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাইকমল’ উপন্যাসের রঞ্জন-কমলি আমাদের শৈশবের খেলার সাথীদের কথা মনে করিয়ে দেয়।

চাঁদের পাহাড় pdf রিভিউ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

শৈশব কৈশোরের খেলাঘরের যাঁরা খেলুড়ে, তাদের মধ্যকার আশ্চর্য সুন্দর ক্লেদহীন এমন বন্ধনকে অবশ্য তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর লেখায় এসেছে –

“দুইটি কিশোর আর কিশোরী। বিচিত্র এর রীতি। কেমন করিয়া যে কোথায় বাঁধন পড়ে! পরান ছাড়িলেও এ বাঁধন ছেঁড়ে না!”

পারিবারিক নীতি-আদর্শগত ব্যবধানে ব্যবধান যতই বাড়ে দেবদাস আর পার্বতীর, ততই পারস্য সাহিত্যোপাদান লায়লী-মজনুর আখ্যানের ঘ্রাণ মেলে ‘দেবদাস’ উপন্যাসে। এ পর্যায়ে সাহসের মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় পার্বতীর চরিত্র। এরূপ সাহসের সঠিক প্রতিশব্দ ধরা যেতে পারে Boldness. প্রসঙ্গত মাহবুব-উল আলম ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত তাঁর উপন্যাসিকা ‘মফিজন’ নির্মাণে নামচরিত্রে কাছাকাছি রকমের Boldness দেখিয়েছেন। দেবদাসের কাপুরুষতা মামুদ চরিত্রের সাথে তর্কাতীতভাবে মেলে কিনা ভাববার বিষয়। সমাজের দোহাই দিয়ে এ সমস্ত উপন্যাস বিয়োগান্তক পরিণতি দেখিয়েছে দেদার। সে কারণেই দেখা যাচ্ছে পার্বতী দোজবরে চৌধুরী মহাশয়ের পরিণীতা হচ্ছে। মফিজনেরও একই ধরণের ঘটনা ঘটে। অবশ্য মফিজনের মধ্যে যে শৈল্পিক উত্তরাধুনিকতা দেখেছি, পার্বতী সে তুলনায় আলাদা। সে কেবল দেবদাসের টান পুষে রেখেছে হৃদয়ে।

এ প্রসঙ্গে চন্দ্রমুখী বাদে অন্যান্য নারীচরিত্রের বিশ্লেষণ অনুপ্রবিষ্ট করাতে হচ্ছে।

প্রথমে মনোরমা। পার্বতীর বড়োবোনশ্রেণির চরিত্রটি অনেকখানি রক্ষণশীল। পার্বতীর হৃদয়ের টান তার কাছে দুর্বোধ্য। সে পতিভক্ত সতীপত্নীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ ধরণের রক্ষণশীল চরিত্রই পরবর্তীতে পারুর ঠাকুরমার মতো অন্তঃপুরের সন্তনারী তৈরির কারিগরের ভূমিকা নেয়। নাতনির প্রতি স্নেহের আতিশয্যে নির্দোষ পণ্ডিতের পিণ্ডি চটকাতে পারেন অথচ নাতনিকে শিক্ষিত করে তুলতে পাঠশালায় পাঠাতে নিদারুণ অনীহা –

“কি হবে বৌমা? একটা-আধটা চিঠি লিখতে পারলে, দুছত্র রামায়ণ-মহাভারত পড়তে শিখলেই ঢের। পারু কি তোমার জজিয়তি করবে, না উকিল হবে?”

এরকম সেকেলে চরিত্র জসীম উদ্দীনের ‘বউ টুবানীর ফুল’ উপন্যাসে সয়লার দাদি। সয়লার মা কিন্তু এর ঠিক উল্টো ছিল। এদিকে দেবা-পারু উভয়ের মা-ই যুগোপযোগী চরিত্রের। এঁদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য মেজাজে – দেবার মা যেখানে ছেলের ব্যাপারে দয়ামায়ার মহাসমুদ্র, পারুর মা সেখানে প্রায় শূন্যতার ভাণ্ডার। আদরের তুলনায় সে ভাণ্ডারের, শাসনই সিংহভাগ দখল করে আছে।

পারু কিন্তু সে তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা – সৎ মা হিসেবে চৌধুরী পরিবারে ঢুকে মাতৃস্নেহে কোনো কমতি রাখেনি সে। দানশীলা-সহনশীলা-অন্নপূর্ণা পার্বতীর সাথে সুরেন্দ্রনাথের সৎ মাকে (‘বড়দিদি’ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) গুলিয়ে ফেলছিলাম বারবার। আবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মেজদিদি’ও সৎমার সংসার অল্পস্বল্প দেখিয়েছে। এদিকে মহেন্দ্রের বিয়ে দিয়ে সংসারে যে জলদবালাকে আনল পার্বতী, সে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জলদ ছিল না। বরং স্বার্থপরতাই তার বিশেষত্ব। অশান্তি আসি আসি করে সে সংসারে অশান্তি আসেনি – তাও পার্বতীর গুণে।

পার্বতীর সেবাপরায়ণ মানসের দেখা মিললেও দেবদাসের মৃত্যুর ঘটনায় সেবাপরায়ণতা পূর্ণতা পেয়ে ওঠেনি। অবশ্য, শৈশবে অভুক্ত দেবদাসের জন্য নিজে বয়ে খাবার নিয়ে যাওয়া যদি প্রেমের একপিঠ হয়, দেবদাসের কাছেই মার খেয়ে পণ্ডিতের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া তার অন্যপিঠ। সেই একপিঠে রয়েছে সেবাপরায়ণতা, আর পিঠে মায়ার টান। এর বাইরে রয়েছে তার দানশীল হৃদয়। এ প্রসঙ্গে অপ্রধান চরিত্র হিসেবে তিন বোষ্টমী আসে উপন্যাসে। তা সত্ত্বেও এদের নির্মাণেও যত্নশীল ছিলেন শরৎ। মোটাদাগে চিরায়ত প্রেমিকা চরিত্র হলেও পরে পতিভক্ত সংসারী হিসেবে পার্বতী পুরো নম্বর পেয়ে পাস।

এদিকে সংসারে শূন্যতা সম্বল করে চিরায়তের পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চন্দ্রমুখী। নায়িকা বলতে চাচ্ছি না চরিত্রটাকে বরং ক্ষেত্রবিশেষে নায়িকার উচ্চতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া চরিত্র চন্দ্রমুখী। শরতের হাতে চন্দ্রমুখীর নির্মাণটা খুব সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করেছি। চরিত্রটা একজন দেহজীবীর। এ ধরণের চরিত্র তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় (উপন্যাস – ‘কবি’) এসেছে, এসেছে হালের হরিশংকর জলদাসের লেখায় (উপন্যাস – ‘কসবি’)। তবে শরৎ সময় এবং সমাজ – উভয় দিক বিবেচনায়ই এঁদের থেকে আলাদা। তারাশঙ্কর তাঁর বেশিরভাগ সাহিত্যে রাঢ়বঙ্গের জীবন ও সংস্কৃতির ছাপ ধারণ করেছেন, অন্যদিকে হরিশংকর জলদাসের লেখায় মোটাদাগে নিম্নবর্গের জীবনাচরণ বেশি করে এসেছে। শরতের সময়ই মূলত তাঁর সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সে বিচারে তিনি চন্দ্রমুখীকে মায়া দিয়ে তৈরি করতে কার্পণ্য করেননি। দেহজীবী পেশাটির নামোল্লেখ না করেই দীর্ঘসময় পর্যন্ত একটা রহস্যে আবৃত করে রাখার কৌশলটি গ্রহণ করা সে সময়কার কলকাতা এবং তৎসংলগ্ন গ্রাম্য সমাজের কারণেই সহজ হয়েছে বলে মনে হয়।

অনুভূতির অভিধান বই রিভিউ-তাহসান খান

চন্দ্রমুখীর সাথে দেবার প্রেমের ঘটনা পরিক্রমায় তার পেশার পরিচয় মেলে। তাহলে আমরা দেখি ভাষাগতভাবে অনেকটা রক্ষণশীল এ বর্ণনাভঙ্গি। সময় এবং সমাজব্যবস্থা এক্ষেত্রে বড়ো প্রভাবকের কাজ করেছে।

চন্দ্রমুখী আর পার্বতী উভয়েই সম্ভাব্য যথেষ্ট পরিমাণে বৈচিত্র্য রেখে এগিয়েছে চরিত্র হিসেবে। কেবল শিশু বয়সের অংশ বিবেচনায় পার্বতী বৈচিত্র্যে হয়তো চন্দ্রমুখীর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে বহুরূপতার ক্ষেত্র বিবেচনায় বোধকরি চন্দ্রমুখীই বেশি বিকশিত চরিত্র।

প্রসঙ্গত চরিত্রের নামকরণে ক্ষেত্রবিশেষে লেখক কৌশলী হতে পারেন। ধারণা করছি, চারিত্রিক গুরুত্ব নিরূপণের ব্যাপারটিতে এক্ষেত্রে শরৎ কৌশল নিয়েছেন। যদি পর্বত শব্দটি থেকে পার্বতী নামটি এসেছে বলে ধরে নিই এবং চন্দ্র থেকে এসেছে চন্দ্রমুখী নাম, তাহলে বোধহয় কৌশলটি স্পষ্ট হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের রোহিনী চরিত্র সৃষ্টি করতেও একইভাবে কৌশলী হয়েছেন বলে মনে হয়। ‘রোহিনী’ জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর চতুর্থ জ্যোতিষ্ক।

‘দেবদাস’-এ ফিরি। চীৎপুর, কলকাতার আধুনিক প্রাসাদ থেকে বের হয়ে দূরবর্তী একটা গ্রামে গিয়ে নিম্নবর্গের একটা সমাজের সকলের চোখের মণি হয়ে থাকার যোগ্যতা চন্দ্রমুখী চরিত্রের বৈচিত্র্য নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ।

দেখা যাচ্ছে, নিম্নবর্গের প্রতিভু হয়েও ধর্মদাস আবার চন্দ্রমুখীকে ঘৃণা করে। ব্যক্তিপার্থক্যে মতপার্থক্যের জায়গাগুলোও এভাবে সূক্ষ্মরূপে চিহ্নিত করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

পার্বতী আর চন্দ্রমুখীর চরিত্রায়ণে প্রতীকায়িত পরিচর্যা পেয়ে অভিভূত হয়েছি। দুটো চরিত্রই সাহসিকতার প্রতিমূর্তি। তবে পার্বতী দেবার পায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ায় আর চন্দ্রমুখী মাথার কাছে। একজন চায় আশ্রয় অন্যজন সেবার হাত বাড়িয়ে প্রস্তুত।

দেবদাস কিন্তু উভয়কেই গ্রহণ করেছে যার যার মতো করে। সময়ের সাথে পছন্দ, মতামত, চিন্তাচেতনার বদল ঘটার বাস্তবতা দেবদাসকে দিয়ে চন্দ্রমুখীকে ‘বৌ’ সম্বোধন করিয়ে দেখিয়েছেন শরৎ।

দেবদাসকে নিয়ে লিখতে গেলে শুরু করা যায় ছোট্টটি থেকে। যথেষ্ট ডানপিটে একটা চরিত্র। শুরুর দিকে অল্প সময়ের জন্য হলেও ইন্দ্র চরিত্রের ছায়া দেখা যায় দেবদাসের মধ্যে। শৈশবের বন্ধন প্রসঙ্গে আগেই বলেছি। সেটাকে কিছুটা হলেও বোধকরি ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের (জহির রায়হান) মন্তু আর টুনির চরিত্রের দস্যিপনার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। সগন শেখের পুকুরে নিশুতি রাতে মাছ ধরতে গিয়ে অসাবধানতায় পিঠ চিরে যায় মন্তুর।

দেবা আর পারুর বেড়ে ওঠার সময়টায় উভয়ের মনস্তাত্ত্বিক ধারার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডিটেইলিংয়ে যথাসম্ভব দেখিয়েছেন। বিশেষ করে পারুর সাথে দেবার বিয়ে হবে না – এমন সংবাদের প্রতিক্রিয়ার ভূমিকায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন –

“ছোটবেলা হইতে তাহার একটা ধারণা ছিল যে দেবদাদার ওপর তাহার একটু অধিকার আছে। অধিকার কেহ যে হাতে তুলিয়া দিয়াছে, তাহা নয়। প্রথম সে নিজেও ঠিকমতো কিছুই বুঝিতে পারে নাই, – অজ্ঞাতসারে, অশান্ত মন দিনে দিনে এই অধিকারটি এমন নিঃশব্দে অথচ এতই দৃঢ় করিয়া প্রতিষ্ঠিত করিয়া লইয়াছিল যে, বাহিরে যদিও একটা বাহ্য আকৃতি তাহার এতদিন চোখে পড়ে নাই, কিন্তু, আজ এই হারানোর কথা উঠিতেই তাহার সমস্ত হৃদয় ভরিয়া একটা ভয়ানক তুফান উঠিতে লাগিল।”

দেবদাসের মধ্যে সে সময় এতটা ঝড় ওঠেনি বলেই বোধকরি তাদের বিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। কিন্তু এর ফলস্বরূপ বিশাল পরিবর্তন আসে দেবার জীবনাচরণে। এই সময়টা কলকাতায় মেসজীবনের কিছু বিবরণ এসেছে উপন্যাসে। এ অংশে চুনিলাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র।

প্রসঙ্গত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুবর্তন’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’ উপন্যাস দুটিতে কলকাতার মেসজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ এসেছে।

দেবদাস কলকাতায় উথাল-পাথাল জীবনে আত্মদ্বন্দ্বে পরাজিত, পথভ্রষ্ট হয়ে মদে আসক্ত হয়।

প্রসঙ্গত মাতাল চরিত্রের বুনন খেয়াল করলাম সূক্ষ্মভাবে। মনে পড়েছে ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ প্রহসনটির কথা। আফসোস হচ্ছে সেই ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’ গ্রন্থখানি আমার কাছে নেই। থাকাটা দরকার ছিল।

‘নববাবুবিলাস’, ‘নববিবিবিলাস’ কত কতটা গুরুত্বপূর্ণ টেক্সট যে অপঠিত থেকে যায় ফাঁকেফোঁকড়ে!

দেবদাসের কলকাতাজীবন শুরুর পর থেকে ধর্মদাস চরিত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ লক্ষ্যণীয়। ভালোবেসে দেবদাস দেবতা ডাকত ধর্মদাস। মোটাদাগে দেবদাস বাপে-খেদানো চরিত্র কিনা – বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু মা হরিমতি দেবী আর দুদিকের দুই প্রেমিকা পার্বতী আর চন্দ্রমুখী ছাড়া পৃথিবীতে যে লোকটি দেবদাসকে ভীষণ ভালোবাসত সে ধর্মদাস।

গল্পে গল্পে বিংশ শতাব্দী – আমিনুল ইসলাম

‘দেবদাস’ একদিকে প্রেম অন্যদিকে ট্রাজেডি – মৃত্যুমুখে কেউ এসে তার মাথায় হাত বোলানোর ছিল না।

শরৎচন্দ্র লিখেছেন –

“… মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময়ে যেন একটি স্নেহ-করস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে – যেন একটিও করুণার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়। মরিবার সময় যেন কাহারও এক ফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে।”

দেবদাস বই রিভিউ বই টি কিভাবে ডাউনলোড করবেন। দেবদাস বই ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে দেয়া হলোঃ

দেবদাস বই রিভিউ pdf

people search also: দেবদাস বই রিভিউ pdf . দেবদাস pdf. দেবদাস বই pdf. দেবদাস boi pdf. দেবদাস download